আমার বাসায় যাইতে হলে এখন এই গলিটা পার হয়ে যাইতে হবে। ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকার আওয়াজ আসতেছে। কেমন একটা গা ছমছমানি ভাব। আমার অবশ্য কখনোই ভুত প্রেতের ভয় ছিলনা। অনেক সময় রাত ২/৩টার দিকেও এই গলি দিয়ে এসে রাস্তার মোড়ের টং দোকান থেকে সিগারেট কিনে নিয়ে গেছি। সেদিনও এমন কোন ভয় আসেনি আমার মনের মধ্যে। গলি দিয়ে হাটছি। হাতে জ্বলন্ত একটা সিগারেট। মোবাইলের আলোতে মাঝে মাঝে রাস্তা দেখে নিচ্ছি আর গুনগুন করে গান গাইছি “দেখা তো তুঝে ইয়ার, দিল মে বাজে গীটার” ঠিক তখন গলির মাঝামাঝি হঠাত্ শুনতে পারলাম কে যেন বললো এঁক্সকিউজ মিঁ ভাঁইয়া। আমি মোবাইলের আলো আশেপাশে ঘুরাইলাম। তাকালাম আশে পাশে কিন্তু কোথাও কেউ নেই। মনে করলাম গলির দুই পাশের কোন বাসায় হয়তো কেউ বলেছে। আবার হাটা শুরু করলাম। দুই ধাপ ফেলতেই আবার সেই ডাক এঁক্সকিউজ মিঁ ভাঁইয়া, আঁপনার সাঁথে এঁকটু কঁথা ছিঁলো। এইবার দাড়িয়ে পড়লাম। হালকা পাতলা ভয় পেলাম তবে সেটা ভুতের না ছিনতাইকারীর। আবার চিন্তা করলাম আমি যদি এখন এইখান থেকে দৌড় দেই আর এটা যদি আমার পরিচিত কেউ হয় তাইলে তো দৌড়ের কথা সবাইকে বলে দিয়ে আমার প্রেস্টিজ পাংচার করে দিবে।
গলা দিয়ে কথা আসছিলো না। তবুও কৃত্রিম সাহস এনে গম্ভির কন্ঠে বললাম “কে?”, উত্তর আসলো ভাঁইয়া আঁমি আঁপনার এঁকজন ছোঁট ভাঁইয়ের মঁত। আঁমি খুঁব বিঁপদে পঁড়েছি। আঁপনার হেঁল্প দঁরকার। আমি এইবার কন্ঠে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে জিগ্যেস করলাম তো এমন নাকি সুরে ভুতের মত কথা বলছো ক্যান? উত্তর দিল ভাঁইয়া আঁমি তো ভুঁত ই। ভুঁত হঁয়ে কিঁ আঁমি ছাঁগলের মঁত কঁথা বঁলবো? আমি কি বলবো বুঝলাম না। ওরে কে কোথায় আছিস আমারে বাঁচা বলে একটা চিত্কার দেওয়ার চিন্তা কেবল করতাছি এমন সময় সে আবার বললো ভাঁইয়া আঁপনার হাঁতের সিঁগারেট টা নিঁভিয়ে ফেঁলে দিঁন তাঁহলে আঁমি আঁপনার সাঁমনে আঁসতে পাঁরবো। আঁপনি তোঁ জাঁনেনই ভুঁতরা আঁগুন দেঁখলে ভঁয় পাঁয়। আঁপনি তোঁ আঁমাকে দেঁখতে পাঁরছেন নাঁ। দেঁখতে পাঁইলে দেঁখতেন ভঁয়ে আঁমার শঁরীরের সঁব লোঁম নেঁতিয়ে গেঁছে। ভয়ে লোম নেতিয়ে যায় নাকি? এতদিন তো শুনেছি ভয়ে লোম খাড়া হয়ে যায়। সে বললো আঁপনাদের মাঁনুষদের ভঁয়ে লোঁম খাঁড়া হঁয়ে যাঁয়। আঁমাদের ভুঁতদের লোঁম তোঁ সঁব সঁময় খাঁড়ায় থাঁকে তাঁই ভঁয় পেঁলে নেঁতিয়ে যাঁয়। আমি সিগারেট ফেলে না দিয়ে জোরসে একটা টান দিলাম। ভুতটা কিছুটা আকুতির মত করে বললো ভাঁইয়া প্লিঁজ আঁপনার পাঁয়ে ধঁরি এঁইভাবে ভঁয় দেঁখাবেন নাঁ। আঁমার হাঁর্টের প্রঁবলেম আঁছে।
আমি বললাম তুমি কে সত্যি করে বলো। আমি জানি তুমি আমার পরিচিত কেউ। আমার সাথে ফাইজলামি করতাছো। আমি ভুত বিশ্বাস করিনা। সে বললো এঁইভাবে বঁলবেন নাঁ ভাঁইয়া। আঁমরা ভুঁত বঁলে কিঁ আঁমাদের কোঁন মাঁন সঁম্মান নাঁই? আঁপনি এঁই ভাঁবে আঁমাদের অঁস্তিত্ব কেঁ অঁস্বীকার কঁরতে পাঁরেন নাঁ। আঁমি কিঁ কঁখনো বঁলেছি যেঁ মাঁনুষ বঁলতে কিঁছু নাঁই, মাঁনুষ বিঁশ্বাস কঁরিনা? বুঝলাম বেশ আত্নমর্যাদা সম্পন্ন ভুত। জিগ্যেস করলাম আমার কাছে তোমার কি দরকার? আমি তোমাকে কিভাবে হেল্প করতে পারি? সে উত্তর দিলো ভাঁইয়া সঁব বঁলবো তাঁর আঁগে আঁপনি দঁয়া কঁরে আঁপনার হাঁতের সিঁগারেট টাঁ ফেঁলে দিঁয়ে নিঁভিয়ে ফেঁলুন। ওঁটাতো এঁমনিতেই শেঁষ হঁয়ে গেঁছে। এঁইভাবে ধঁরে রাঁখলে তোঁ এঁকটু পঁর আঁপনার আঁঙ্গুলে ছেঁকা লাঁগবে। আমি সিগারেটের দিকে তাকালাম। আসলেই এটা শেষ। একটু পর সত্যি ছেকা খাইতাম। ফেলে দিয়ে পা দিয়ে নিভিয়ে ফেললাম। তারপর বললাম এখন বলো কি সমস্যা তোমার? ভুত তার কাহিনী বলা শুরু করলো ।
ভাঁইয়া আঁমার নাঁম উঁত্ঘট। বেঁচে থাঁকতে আঁমার নাঁম ছিঁলো উঁত্পল, মঁরার পঁর ভুঁত হঁয়ে আঁমার নাঁম হঁয়েছে উঁত্ঘট। আমি জিগ্যেস করলাম কত দিন আগে তুমি মারা গেছো? উত্তর দিলো তাঁ তোঁ ভাঁইয়া কঁয়েক লাঁখ বঁছর হঁবে। তারপর সে বললো ভাঁইয়া চঁলেন চাঁ খাঁইতে খাঁইতে গঁল্প কঁরি। আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলাম ভুতরা আবার চাও খায় নাকি? উত্ঘট বললো কেঁনো খাঁবেনা? ভুঁতরা মাঁনুষদের চেঁয়ে বেঁশি চাঁ খাঁয় কাঁরন ভুঁতদের সাঁরারাত জেঁগে থেঁকে মাঁনুষ দেঁর ভঁয় দেঁখাতে হঁয়। চাঁ নাঁ খেঁলে কিঁ এঁত জেঁগে থাঁকা যাঁয়। আমি শুধু একটু ঢোক গিললাম।
কি বলবো কিছুই বুঝলামনা। এই রাতের বেলা কোন ভুতের সাথে চা খাওয়ার ইচ্ছা আমার নাই। আমি বললাম দেখো উত্ঘট, তোমাদের তো সারারাত জেগে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য চা খেতে হয় কিন্তু আমার তো আর রাত জেগে কোন ভুত কে ভয় দেখানোর মত কোন ডিউটি নাই।আমি বাসায় যেয়ে ঘুমাবো তাই আমি এখন চা খাবোনা। তুমি তাড়াতাড়ি তোমার প্রবলেমের কথা বলো।
সে আবার বলা শুরু করলো ভাঁইয়া আঁমি অঁনেক শিঁক্ষিত এঁকজন ভুঁত। আঁমি ক্লাস টু পর্যন্ত পঁড়েছি। ক্লাঁস ফাঁইভে এঁবং এঁইটে ট্যাঁলেন্টপুলে বৃঁত্তি পেঁয়েছি। আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে জিগ্যেস করলাম ক্লাস টু পর্যন্ত পড়লে ক্লাস ফাইভ এবং এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাইলা কেমনে? সে উত্তর দিলো ভাঁইয়া আঁপনাদের যেঁমন ক্লাঁস ওঁয়ানে ভঁর্তি হঁয়ে মাঁস্টার্স পঁযন্ত পঁড়ে আঁমাদের ভুঁত সঁমাজে ঠিঁক তাঁর উঁল্টো। মাঁস্টার্সে ভঁর্তি হঁয়ে উঁল্টো দিঁকে আঁসতে আঁসতে ক্লাঁস ওঁয়ানে এঁসে পঁড়া শেঁষ হঁয়। আমি কন্ঠে বিরক্তি এনে বললাম যত্ত সব ফালতু নিয়ম। উত্ঘট বললো নাঁ ভাঁইয়া, এঁটাই ঠিঁক নিঁয়ম। আঁপনাদেরটাই ফাঁলতু নিঁয়ম। কাঁরন প্রাঁইমারী, হাঁইস্কুল তোঁ খুঁব সঁহজ পঁড়া। কঁঠিন পঁড়া তোঁ অঁনার্স, মাঁস্টার্সে। সঁহজ পঁড়া পঁড়ে উঁপরের ক্লাঁসে ওঁঠার চেঁয়ে কঁঠিন পঁড়া পঁড়ে নিঁচের ক্লাঁসে যাঁওয়া অঁনেক যৌঁক্তিক। এঁতে ভিঁত্তি মঁজবুত হঁয়। আমি আর তার যুক্তির কাছে কিছু বলতে পারলাম না। জিগ্যেস করলাম তাহলে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়ে পড়া ছেড়ে দিলে কেনো? ক্লাস ওয়ান টা পাশ করলেই তো তোমার একেবারে কমপ্লিট হয়ে যেতো। সে তখন বললো ঐঁ কাঁহিনীই তোঁ এঁখন আঁপনাকে বঁলবো ভাঁইয়া।
আঁমি যঁখন ক্লাঁস টুঁ তেঁ ভঁর্তি হঁলাম তঁখন আঁমার ক্লাঁসে ভঁর্তি হঁলো চেঁনেহা নাঁমের এঁক পেঁত্নি। বেঁচে থাঁকতে নাঁম ছিঁলো স্নেঁহা। পেঁত্নি হঁওয়ার পঁর নাঁম হঁয়েছে চেঁনেহা। তাঁরপর ভাঁইয়া আঁমি চেঁনেহার প্রেঁমে পঁড়ে গেঁলাম। এই পর্যন্ত বলে আবার সে চুপ। আমি জিগ্যেস করলাম কি হল? তারপর? সে কয়েক সেকেন্ড পর বললো নিঁজের প্রেঁমের কঁথা বঁলতে যেঁয়ে এঁকটু লঁজ্জা পেঁয়ে গেঁছিলাম তোঁ ভাঁইয়া তাঁই এঁকটু চুঁপ কঁরে ছিঁলাম। আমি মনে মনে বললাম ভুতেরও আবার লজ্জা। মুখে শুধু বললাম তারপর কি কাহিনী? উত্ঘট আবার বলা শুরু করলো চেঁনেহাকে আঁমার ভাঁলোবাসার কঁথা জাঁনালাম। সেঁ কিঁছুতেই আঁমার প্রঁস্তাবে সাঁড়া দিঁলোনা। আঁমার নাঁওয়া খাঁওয়া, পঁড়াশুনা সঁব গোঁল্লায় যেঁতে লাঁগলো। এঁকদিন এঁকটা কাঁগজে কঁরে “দেঁখা তোঁ তুঁঝে ইঁয়ার দিঁল মেঁ বাঁজে গীঁটার” কঁথাটা লিখে চেঁনেহাকে দিঁলাম।