Saturday, December 7, 2013

একটি ভযাবহ ভয়ংকর ভয়ানক ভয়ের ভুতের গল্প। (বাচ্চা-কাচ্চা এবং দূর্বল চিত্তের মানুষেরা নিজ দ্বায়িত্বে পড়বেন।)




তখন ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। সেদিন ছিল অমাবশ্যার রাত। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। একহাত সামনের জিনিসও দেখা যায়না। তখন প্রায় রাত ১১টা। আমার দেশের বাড়িতে কিন্তু রাত ১১টা অনেক রাত। সবাই লাইট নিভিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি রাস্তা দিয়ে হাটছি। হাটছি মানে বাসায় ফিরছি। এক বন্ধুর বার্থডে ছিলো। সেই বন্ধুর বাড়িতে আড্ডা মেরে, খাওয়া-দাওয়া সেরে বাসায় ফিরছি। সব দোকান পাট বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় শুধু বিক্ষিপ্ত ভাবে /১টা কুকুর ঘোরাফেরা করছে। আমি মেইন রোড পার হয়ে গলিতে ঢুকলাম
আমার বাসায় যাইতে হলে এখন এই গলিটা পার হয়ে যাইতে হবে। ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকার আওয়াজ আসতেছে। কেমন একটা গা ছমছমানি ভাব। আমার অবশ্য কখনোই ভুত প্রেতের ভয় ছিলনা। অনেক সময় রাত /৩টার দিকেও এই গলি দিয়ে এসে রাস্তার মোড়ের টং দোকান থেকে সিগারেট কিনে নিয়ে গেছি। সেদিনও এমন কোন ভয় আসেনি আমার মনের মধ্যে। গলি দিয়ে হাটছি। হাতে জ্বলন্ত একটা সিগারেট। মোবাইলের আলোতে মাঝে মাঝে রাস্তা দেখে নিচ্ছি আর গুনগুন করে গান গাইছিদেখা তো তুঝে ইয়ার, দিল মে বাজে গীটারঠিক তখন গলির মাঝামাঝি হঠাত্শুনতে পারলাম কে যেন বললো এঁক্সকিউজ মিঁ ভাঁইয়া। আমি মোবাইলের আলো আশেপাশে ঘুরাইলাম। তাকালাম আশে পাশে কিন্তু কোথাও কেউ নেই। মনে করলাম গলির দুই পাশের কোন বাসায় হয়তো কেউ বলেছে। আবার হাটা শুরু করলাম। দুই ধাপ ফেলতেই আবার সেই ডাক এঁক্সকিউজ মিঁ ভাঁইয়া, আঁপনার সাঁথে এঁকটু কঁথা ছিঁলো। এইবার দাড়িয়ে পড়লাম। হালকা পাতলা ভয় পেলাম তবে সেটা ভুতের না ছিনতাইকারীর। আবার চিন্তা করলাম আমি যদি এখন এইখান থেকে দৌড় দেই আর এটা যদি আমার পরিচিত কেউ হয় তাইলে তো দৌড়ের কথা সবাইকে বলে দিয়ে আমার প্রেস্টিজ পাংচার করে দিবে
গলা দিয়ে কথা আসছিলো না।   তবুও কৃত্রিম সাহস এনে গম্ভির কন্ঠে বললামকে?”, উত্তর আসলো ভাঁইয়া আঁমি আঁপনার এঁকজন ছোঁট ভাঁইয়ের মঁত। আঁমি খুঁব বিঁপদে পঁড়েছি। আঁপনার হেঁল্প দঁরকার। আমি এইবার কন্ঠে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে জিগ্যেস করলাম তো এমন নাকি সুরে ভুতের মত কথা বলছো ক্যান? উত্তর দিল ভাঁইয়া আঁমি তো ভুঁত ই। ভুঁত হঁয়ে কিঁ আঁমি ছাঁগলের মঁত কঁথা বঁলবো? আমি কি বলবো বুঝলাম না। ওরে কে কোথায় আছিস আমারে বাঁচা বলে একটা চিত্কার দেওয়ার চিন্তা কেবল করতাছি এমন সময় সে আবার বললো ভাঁইয়া আঁপনার হাঁতের সিঁগারেট টা নিঁভিয়ে ফেঁলে দিঁন তাঁহলে আঁমি আঁপনার সাঁমনে আঁসতে পাঁরবো। আঁপনি তোঁ জাঁনেনই ভুঁতরা আঁগুন দেঁখলে ভঁয় পাঁয়। আঁপনি তোঁ আঁমাকে দেঁখতে পাঁরছেন নাঁ। দেঁখতে পাঁইলে দেঁখতেন ভঁয়ে আঁমার শঁরীরের সঁব লোঁম নেঁতিয়ে গেঁছে। ভয়ে লোম নেতিয়ে যায় নাকি? এতদিন তো শুনেছি ভয়ে লোম খাড়া হয়ে যায়। সে বললো আঁপনাদের মাঁনুষদের ভঁয়ে লোঁম খাঁড়া হঁয়ে যাঁয়। আঁমাদের ভুঁতদের লোঁম তোঁ সঁব সঁময় খাঁড়ায় থাঁকে তাঁই ভঁয় পেঁলে নেঁতিয়ে যাঁয়। আমি সিগারেট ফেলে না দিয়ে জোরসে একটা টান দিলাম। ভুতটা কিছুটা আকুতির মত করে বললো ভাঁইয়া প্লিঁজ আঁপনার পাঁয়ে ধঁরি এঁইভাবে ভঁয় দেঁখাবেন নাঁ। আঁমার হাঁর্টের প্রঁবলেম আঁছে
আমি বললাম তুমি কে সত্যি করে বলো। আমি জানি তুমি আমার পরিচিত কেউ। আমার সাথে ফাইজলামি করতাছো। আমি ভুত বিশ্বাস করিনা। সে বললো এঁইভাবে বঁলবেন নাঁ ভাঁইয়া। আঁমরা ভুঁত বঁলে কিঁ আঁমাদের কোঁন মাঁন সঁম্মান নাঁই? আঁপনি এঁই ভাঁবে আঁমাদের অঁস্তিত্ব কেঁ অঁস্বীকার কঁরতে পাঁরেন নাঁ। আঁমি কিঁ কঁখনো বঁলেছি যেঁ মাঁনুষ বঁলতে কিঁছু নাঁই, মাঁনুষ বিঁশ্বাস কঁরিনা? বুঝলাম বেশ আত্নমর্যাদা সম্পন্ন ভুত। জিগ্যেস করলাম আমার কাছে তোমার কি দরকার? আমি তোমাকে কিভাবে হেল্প করতে পারি? সে উত্তর দিলো ভাঁইয়া সঁব বঁলবো তাঁর আঁগে আঁপনি দঁয়া কঁরে আঁপনার হাঁতের সিঁগারেট টাঁ ফেঁলে দিঁয়ে নিঁভিয়ে ফেঁলুন। ওঁটাতো এঁমনিতেই শেঁষ হঁয়ে গেঁছে। এঁইভাবে ধঁরে রাঁখলে তোঁ এঁকটু পঁর আঁপনার আঁঙ্গুলে ছেঁকা লাঁগবে। আমি সিগারেটের দিকে তাকালাম। আসলেই এটা শেষ। একটু পর সত্যি ছেকা খাইতাম। ফেলে দিয়ে পা দিয়ে নিভিয়ে ফেললাম। তারপর বললাম এখন বলো কি সমস্যা তোমার? ভুত তার কাহিনী বলা শুরু করলো
ভাঁইয়া আঁমার নাঁম উঁত্ঘট। বেঁচে থাঁকতে আঁমার নাঁম ছিঁলো উঁত্পল, মঁরার পঁর ভুঁত হঁয়ে আঁমার নাঁম হঁয়েছে উঁত্ঘট। আমি জিগ্যেস করলাম কত দিন আগে তুমি মারা গেছো? উত্তর দিলো তাঁ তোঁ ভাঁইয়া কঁয়েক লাঁখ বঁছর হঁবে। তারপর সে বললো ভাঁইয়া চঁলেন চাঁ খাঁইতে খাঁইতে গঁল্প কঁরি। আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলাম ভুতরা আবার চাও খায় নাকি? উত্ঘট বললো কেঁনো খাঁবেনা? ভুঁতরা মাঁনুষদের চেঁয়ে বেঁশি চাঁ খাঁয় কাঁরন ভুঁতদের সাঁরারাত জেঁগে থেঁকে মাঁনুষ দেঁর ভঁয় দেঁখাতে হঁয়। চাঁ নাঁ খেঁলে কিঁ এঁত জেঁগে থাঁকা যাঁয়। আমি শুধু একটু ঢোক গিললাম
কি বলবো কিছুই বুঝলামনা। এই রাতের বেলা কোন ভুতের সাথে চা খাওয়ার ইচ্ছা আমার নাই। আমি বললাম দেখো উত্ঘট, তোমাদের তো সারারাত জেগে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য চা খেতে হয় কিন্তু আমার তো আর রাত জেগে কোন ভুত কে ভয় দেখানোর মত কোন ডিউটি নাই।আমি বাসায় যেয়ে ঘুমাবো তাই আমি এখন চা খাবোনা। তুমি তাড়াতাড়ি তোমার প্রবলেমের কথা বলো
সে আবার বলা শুরু করলো ভাঁইয়া আঁমি অঁনেক শিঁক্ষিত এঁকজন ভুঁত। আঁমি ক্লাস টু পর্যন্ত পঁড়েছি। ক্লাঁস ফাঁইভে এঁবং এঁইটে ট্যাঁলেন্টপুলে বৃঁত্তি পেঁয়েছি। আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে জিগ্যেস করলাম ক্লাস টু পর্যন্ত পড়লে ক্লাস ফাইভ এবং এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাইলা কেমনে? সে উত্তর দিলো ভাঁইয়া আঁপনাদের যেঁমন ক্লাঁস ওঁয়ানে ভঁর্তি হঁয়ে মাঁস্টার্স পঁযন্ত পঁড়ে আঁমাদের ভুঁত সঁমাজে ঠিঁক তাঁর উঁল্টো। মাঁস্টার্সে ভঁর্তি হঁয়ে উঁল্টো দিঁকে আঁসতে আঁসতে ক্লাঁস ওঁয়ানে এঁসে পঁড়া শেঁষ হঁয়। আমি কন্ঠে বিরক্তি এনে বললাম যত্ত সব ফালতু নিয়ম। উত্ঘট বললো নাঁ ভাঁইয়া, এঁটাই ঠিঁক নিঁয়ম। আঁপনাদেরটাই ফাঁলতু নিঁয়ম। কাঁরন প্রাঁইমারী, হাঁইস্কুল তোঁ খুঁব সঁহজ পঁড়া। কঁঠিন পঁড়া তোঁ অঁনার্স, মাঁস্টার্সে। সঁহজ পঁড়া পঁড়ে উঁপরের ক্লাঁসে ওঁঠার চেঁয়ে কঁঠিন পঁড়া পঁড়ে নিঁচের ক্লাঁসে যাঁওয়া অঁনেক যৌঁক্তিক। এঁতে ভিঁত্তি মঁজবুত হঁয়। আমি আর তার যুক্তির কাছে কিছু বলতে পারলাম না। জিগ্যেস করলাম তাহলে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়ে পড়া ছেড়ে দিলে কেনো? ক্লাস ওয়ান টা পাশ করলেই তো তোমার একেবারে কমপ্লিট হয়ে যেতো। সে তখন বললো ঐঁ কাঁহিনীই তোঁ এঁখন আঁপনাকে বঁলবো ভাঁইয়া
আঁমি যঁখন ক্লাঁস টুঁ তেঁ ভঁর্তি হঁলাম তঁখন আঁমার ক্লাঁসে ভঁর্তি হঁলো চেঁনেহা নাঁমের এঁক পেঁত্নি। বেঁচে থাঁকতে নাঁম ছিঁলো স্নেঁহা। পেঁত্নি হঁওয়ার পঁর নাঁম হঁয়েছে চেঁনেহা। তাঁরপর ভাঁইয়া আঁমি চেঁনেহার প্রেঁমে পঁড়ে গেঁলাম। এই পর্যন্ত বলে আবার সে চুপ। আমি জিগ্যেস করলাম কি হল? তারপর? সে কয়েক সেকেন্ড পর বললো নিঁজের প্রেঁমের কঁথা বঁলতে যেঁয়ে এঁকটু লঁজ্জা পেঁয়ে গেঁছিলাম তোঁ ভাঁইয়া তাঁই এঁকটু চুঁপ কঁরে ছিঁলাম। আমি মনে মনে বললাম ভুতেরও আবার লজ্জা। মুখে শুধু বললাম তারপর কি কাহিনী? উত্ঘট আবার বলা শুরু করলো চেঁনেহাকে আঁমার ভাঁলোবাসার কঁথা জাঁনালাম। সেঁ কিঁছুতেই আঁমার প্রঁস্তাবে সাঁড়া দিঁলোনা। আঁমার নাঁওয়া খাঁওয়া, পঁড়াশুনা সঁব গোঁল্লায় যেঁতে লাঁগলো। এঁকদিন এঁকটা কাঁগজে কঁরেদেঁখা তোঁ তুঁঝে ইঁয়ার দিঁল মেঁ বাঁজে গীঁটারকঁথাটা লিখে চেঁনেহাকে দিঁলাম

একটি বাস্তব প্রেমের গল্প…….

এটি আমার এক বন্ধুর বাস্তব প্রেমের গল্প…
আমার বন্ধুরা কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলেই বাদরামি শয়তানি চালিয়ে যেতে থাকে আর আমি ওদের সাথে থাকলে কোন মেয়ে দেখলে পালিয়ে যেতাম । হেডস্যারের কাছে ওদের নামে প্রায় প্রতিদিন নালিশ আসত আমরা ক্লাস করতাম ছেলে মেয়ে একসাথে আমাদের ক্লাসের এমন কোন মেয়ে নেই যারা আমার বন্ধুদের বাঁদরামির শিকার হয়নি । ও ভাল কথা আমার বন্ধুদের সাথে আপনাদের পরিচয় করানই হলনা …. বন্ধুদের গ্রুপ সাধারণত হয় দুই, চার বা জোড় সংখ্যায় ব্যতিক্রমও ঘটে প্রায়ই এমনই এক বন্ধু গ্রুপ আমাদের তিনজনের। শিমুল, রাজ আর আমি । শিমুল বেশ লম্বা, গায়ের রঙ ফর্সা, চেহারাও নায়ক নায়ক। রাজ শিমুলের তুলনায় বেঁটে আর গায়ের শামলা । আর আমি লম্বা বৈশিষ্টহীন সাধারণ চেহারার বাঙালী। তিনজনের পছন্দ-অপছন্দে বিস্তর অমিল, শুধু এক জায়গায় আমাদের মিলের কোন অভাব নাই আর তা হল আমরা প্রায় ঝগড়া করি আমার মিলে যায় ! আমার এক জাইগায় আমার সাথে ওদের দুইজনের অমিল ওরা দুইজনেই প্রেম করে…… মাঝে মাঝে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বেস্ট-বাইডে প্রেম করে আমি প্রেমের বিরোধিতা করি !! আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্ততি নিচ্ছি আমি সুনীল স্যারের কাছে পরতে যেতাম একদিন স্যার আমাকে বলল ওদের সাথে কিভাবে আমার ভাল বন্ধুত হল? আমি কি জবাব দিব ভেবে না পেয়ে স্যারকে বললাম কেন স্যার? স্যার বলল হয় তুইও ওদের সাথে বাঁদরামি করবি না হলে ওদের সঙ্গ ছেড়ে দিবি .. স্রোতের বিপরীতে কেন থাকবি ? আমি স্যারকে কিছুই বলতে পারলাম না.. আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের আর কেউ বৃত্তি পরীক্ষায় দিবে না জিলা স্কুলে বৃত্তি পরীক্ষার সীট পড়েছে ভয়ে ভয়ে ছিলাম নতুন স্কুল, স্যারগুলো কেমন? বৃত্তি পরীক্ষার দিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম আমার ভাই আমাকে জিলা স্কুলে নিয়ে গেল স্কুলের গেইটে শিমুল, রাজ আমার জন্য অপেক্ষা করছে … ওরা আমাকে সাহস দিল তুই যা ভয়ের কিছুই নেই ওদের কথা বলার ভঙ্গি দেখে মনে হল ওরা যেন ১০-১২ বার বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছে !! বৃত্তি পরীক্ষা শেষ এল দুর্গা পুজা রাজ সকালে আমার বাসায় আসল বলল একবারে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হ … আর মাসিকে বল বাসায় ফিরতে দেরি হবে… মাকে কথাটা বলতে ভয় পাছিলাম… রাজ মাকে কিভাবে জানি রাজি করল.. বাসা থেকে বের হয়ে নেত্রকোনার বাসে আমি বললাম বাসে কেন? ও বলল নেত্রকোনা পুজা দেখতে যাবে … রাতেই ফিরে আসবে… আমি প্রথমে যেতে রাজি হয়নি পরে রাজের অনুরধে নেত্রকোনা যেতে হল … এই প্রথম বাসায় না বলে ময়মনসিংহ থেকে বাইরে কোথাও এলাম… বড় বাজার পুজার মূর্তি দেখে বের হচ্ছি এমন সময় রাজ আমাকে বলল দোস্ত দেখ.. আমার দৃষ্টি মুহূর্তেই স্বপ্ন দেখে আঁতকে উঠল , মনের ভীতর জন্মালো প্রকান্ড ঢেউ, বুকের ভীতর সুনামি বইতে লাগল, আমার মনে হছিল তাকে না পেলে আমি হব সব কিছু হারানো কোন এক উদ্বাস্তু তরুণ, তাকে পেতেই হবে, তাকে পেতেই হবে.. আমি আজ ভালোবাসতে শিখলাম আমি আজ প্রেমিক হলাম…. যে আমি প্রথম দেখায় প্রেম কোনকালেই বিশ্বাস করতাম না রাজ,সিমুলের প্রেমের বিরোধিতা করেছি সেই আমি আজ প্রথম দেখায় প্রেমে পরেছি সেটা রাজকে বুঝতে দিতে চাইলাম না রাজ আমার নিরবতা ভেঙ্গে বলল দোস্ত চল ওর সাথেই কথা বলি আমি বললাম অই শালা ওর সাথে ওর অভিভাক আছে ওইটা দেখছস? আর তুই না প্রেম করশ? রাজ আমারে বলল চল পিছু লই দেহি কই যায়, ওর এই কথা সুনে কেন জানি রাগ হল রাজ আমারে বলল চলতো দেখি যা তোর সাথেই প্রেম করাইয়া দিমু … আমি ভনিতার সুরে বললাম তুই কইসশ না গেলে উপাই আছে?? চল…………. ১ ঘণ্টা ধরে ওর পিছন পিছন ঘুরছি.. মুক্তার পাড়া পুজা দেখতে ঢুকলাম ওর মা (সম্ভবত) ওর থেকে একটু সামনে চলে গেল রাজ বলল

যেভাবে শুরু একটি প্রেমের গল্পের..

কোনো একদিন কাজকর্মহীন অলস সময়ে আদমান বাংলালিংক মেসেঞ্জারে ঢুকেছিলো। বাংলালিংক মেসেঞ্জার নামক এই সার্ভিসটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বাংলালিংক নতুন নামিয়েছে। এতে ইন্টারনেটের ইয়াহু, জিমেল মেসেঞ্জারের মতো চ্যাট করা যায়। প্রথমবার ঢুকলে সেখানে একটা নিকনেম দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। আদমান অলস সময় কাটাতে ঢুকেছিলো। এবং ‘আদম’ নাম দিয়ে রেজিস্ট্রেশনও করেছিলো। অবশ্য সেদিন সে কারো সাথেই তেমন চ্যাট করতে পারেনি। একটু পরেই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো সে। কিন্তু এই অল্প সময়েই বাংলালিংক তার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলো। ফলে, পরে আর আদমান বাংলালিংক মেসেঞ্জার সম্পর্কে উৎসাহ পায়নি। এবং কখনো আর ভুলেও ঢুকেনি মেসেঞ্জার নামক সেই রাক্ষুসে ‘সেবা’খানায়।
এভাবে কয়েকমাস গেলো। হঠাৎ একদিন বাংলালিংক মেসেঞ্জার থেকে একটা এওয়ারিং মেসেজ এলো আদমানের নাম্বারে। মেসেজটা এরকম:
“-Chat Invite-
Tanvi (18, F, Dhaka) wants to Chat with you!:)
To accept and chat, Reply with YES.
আদমান মেসেজটা পড়লো এবং হাসলো। মেসেজটা তাকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারলোনা।
একটুপর আবার একটা মেসেজ এলো বাংলালিংক মেসেঞ্জার থেকেআদমান সেটা পড়লো:
To accept the chat invite from Tanvi reply with YES”
আদমান এবার একটু কৌতুহলী হলো। মনে মনে সে ভাবলো, আচ্ছা দেখাই যাকনা একবার। এই ভেবে সে ‘YES লিখে রিপ্লাই পাঠালো।
একটুপরেই ফিরতি মেসেজে বাংলালিংক মেসেঞ্জার জানালো:
“Tanvi has been added to your BL Messenger contact list. To chat with Tanvi reply with your message.”
আদমান বাংলালিংক মেসেঞ্জার কে টাকা খাওয়াতে রাজী নয়। বাংলালিংক এর চিপ একটা অফার চলছে, ১০টাকায় ৫০০এসএমএস। আদমান ভাবলো, সেই এসএমএস দিয়ে সে চ্যাট করবেবাংলালিংক মেসেঞ্জার এ ১০টাকা দিয়ে পাঁচটা এসএমএসের বেশি করা যাবেনা। কিন্তু ৫০০ এসএমএস কিনলে সে পুরো ২৪ঘন্টা চ্যাট করতে পারবে। তাই সে রিপ্লাই করলো:
“Hi, How’s going on? I’m here with  019208219**.”
দ্রুতই জবাব এলো। এরকম:
ok, but I have only warid. Do u have?”
Warid হচ্ছে অন্য একটি মোবাইল অপারেটর। আদমানের একটি ওয়ারিদ সিমকার্ড আছে। কিন্তু সে এখন গ্রামের বাড়িতে। এখানে সেটার নেটওয়ার্ক নেই। তাই সে এটা চালাতে পারেনা। আর তাছাড়া তার তো উদ্দেশ্য ছিলো ফ্রি এসএমএসে চ্যাট করা। অথচ ও’পক্ষ বলছে তার একমাত্র ওয়ারিদ’ই আছে। তবু আদমান লিখলো:
Oh sorry! I’ve no Warid. Do you have any other?
I’m from Dhaka. You?”
মেসেজটা সেন্ট করে আদমান ও’পক্ষের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু বেশ কিছু সময় কেটে গেলো, ও’পক্ষের কোনো জবাব এলোনা। আদমান ভাবলো, ও’পক্ষ হয়তো অন্যদিকে চম্পট মেরেছে। কেননা মেসেঞ্জারবাসীদের এদিক সেদিক দৌঁড়ঝাঁপ মারার একটা বাতিক আছে।
কিন্তু আদমানকে কিছুটা অবাক করে দিয়ে, ওয়ারিদ নাম্বার থেকে একটা কল এলো। আদমান একটু অবাক হলো এ কারনে যে, দু’একটা মেসেজ চালান করেই মেসেঞ্জারবাসীদের মধ্যে কেউ সচরাচর কল করেনা। আদমানের এ অভিজ্ঞতা অবশ্যই ইন্টারনেট মেসেঞ্জারের। সেখানে ভয়েস চ্যাটের আবদার করলে বাংলাদেশী মেয়েরা সহজে কেউ রাজী হয়না। আলাপ পরিচয় হলে তারপর অবশ্য তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ভয়েসে চ্যাট করে। কিন্তু এখানে একটা মেসেজ চালান করেই ও’পক্ষ কল করে বসলো! নাকি এটা অন্য কেউ? না। এটা যে ও’পক্ষেরই কল, আদমান সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। তাহলে কি ও’পক্ষ টিনএজার কোনো ছেলে? আদমানকে সে মেয়ে ভেবে নিয়েছে? তাই সে এতো আগ্রহী? কি জানি!
ফোনটা তখনও বেজে চলছে। আদমান ধরলো। কানে নিয়েই সে শুনলো ও’পাশে চিকন রিনরিনে একটা মেয়েকন্ঠ বলছে: “কে বলছেন?” আদমান নিশ্চিত হলো যে, ও’পাশের কন্ঠস্বরটি তার, যার সাথে চ্যাট করছিলো সে। আদমান বললো:
“এতোক্ষণ মেসেঞ্জারে আমি যার সাথে কথা বলছিলাম আপনি তাহলে সেই?”
ও’পাশের রিনরিনে কন্ঠ মৃদু হেসে বললো: “কথা বলছিলেন? কই শুনতে পাইনি তো!”
“মেসেঞ্জারে কথা শুনতে পাননি! ভেরী সেড। এখন নিশ্চয়ই শুনতে পাচ্ছেন?”
“তা পাচ্ছি।”
“নাকি আরো জোরে বলবো?”
“হাহাহা... না ঠিক আছে।”
“তো কেমন আছেন আপনি?”
“ভালো। এবং একটু টায়ার্ড।”
“টায়ার্ড? কেনো? ভয়ে?”
“হাহাহা...ভয় পাবো কেনো?”
“না..কে না কে কল ধরে!”
“না ভয় পাইনি। তাছাড়া আপনি তো আর বাঘ ভাল্লুক না!”
“বাঘ ভাল্লুক তো নই-ই, এমনকি গরু মহিষও না। আমি আদম।”
“আপনার নাম কি সত্যিই আদম নাকি!”
“নামটা আদম না হলেও আমি তো আসলে আদমই। আর আপনি ইভ, তাইনা?”
“হাহাহা...তা নামটা কি জনাবের?”
“আদমান। সাথে অবশ্য একটা সাফী আছে।”
“আদমান সাফী? আদনান সামী’র ছোটভাই? হাহাহা...”
“আমি একজন আদম, আদনান সামীও আদম। আর সকল আদম ভাই ভাই। সে হিসেবে ভাই তো বটেই।”
“হোহোহো... হুঁ বুঝলাম।”
“তা, আপনার নামটা কি বলা যাবে?”
“আমার নামটা মেসেঞ্জার লিস্টে ছিলো তো, তাইনা?”
“তা ছিলো একটা। তানভি। ভাবলাম যে, অনেকেই তো মেসেঞ্জারে  বানানো নিকনেম ইউজ করে।”
“যারা মেসেঞ্জারে খুব অভিজ্ঞ তারা হয়তো করে। আমি এখানে নতুন। আবার যদি নাম লিখি, বানানো নাম লিখবো।”
“সরি, আপনার উদার সততার উপর আঘাত করেছি। ডোন্ট মাইন্ড, প্লিজ।”
“না ঠিক আছে।”
“আপনি কোথা থেকে বলছেন জানা যাবে?”
“কোথা থেকে মানে কি কোথায় থাকি সেটা?”
“হুঁ। কোথায় থাকেন, কোথায় পড়েন, কোথায় খান, কোথায় ঘুমান এইসব আর কি...”
“ঢাকা।”
“সব ঢাকায়? ঢাকার কোথায়?”
“...রায়” এই কথাটা বুঝতে পারলোনা আদমান। সে বললো: “উত্তরায়?”
“উত্তরা আবার ঢাকা নাকি! উত্তরা তো ঢাকার বাইরে।”
“লোকে তো টংগী গাজীপুরকেও ঢাকা বলে।”
“বান্দরবন পঞ্চগড়ের লোকেরা হয়তো বলে।”
“তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু ঢাকার বাইরে মানে খুলনা রাজশাহী সিলেট গেলে শুনি, আপনারা তো ঢাকার লোক এরকম বলে। তাই বললাম আর কি।”
“আপনি কি টংগী থাকেন নাকি?”
“না আমি ঢাকায় থাকি, ঝিগাতলায়। আমার বাড়ি গাজীপুরে।”
“ও আচ্ছা।”
“বুঝলাম আপনি উত্তরায় থাকেন না, ঢাকায় থাকেন। ঢাকার কোথায়?”
“রামপুরা।”
“রামপুরায় থাকেন। আর খাওয়াদাওয়া? হোহোহো...”
“সেটাও সেখানেই, বাবার হোটেলে।”
“পড়াশুনার জন্য আর দূরে গিয়ে লাভ কী, তাইনা?”
“হাহাহা...ঠিক, রামপুরা কলেজ থেকে এবার মাত্র ইন্টার করেছি। এখন ভর্তির চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঢাকা ভার্সিটি থেকে ফরম তুলেছি, জানি টিকবোনা, তাও তুলেছি।”
“টিকবেন না! কেনো? নিজের উপর কনফিডেন্ট নেই?”
“শুধু কনফিডেন্টে কিছু হয়? আমি তো একেবারেই পড়িনা।”
“নিজের উপর আস্থা মানুষকে তার কাজের অর্ধেক করে দেয়। মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন।”
“অর্ধেক করে দেয় বুঝলাম, (হাসতে হাসতে...) আর বাকী অর্ধেক কে করবে শুনি!”
“কেনো, আপনি বুঝি খুব ফাঁকিবাজ!”

বাংলা প্রেমের গল্প

 পকেটে মাত্র একশ টাকা। সম্বল বলতে এটুকুই। কাল নীরার জন্মদিন। তিন বছর ধরে একসাথে আছি। মেয়েটাকে কখনোই কিছু দেয়া হয়নি। পৃথীবিতে কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা অল্পতেই খুশী। নীরাও তাই। ও এমন একটা মেয়ে যার কাছে কিছুই লুকানো যায়না। আর তাই তিন বছরের মধ্যে ওর সামনে কখনো মন খারাপ করতে পারিনি। এমনিতেই ও অনেক বেশি কেয়ারিং। নীরার সাথে আমার পরিচয় ফার্মগেটে। ইউ-সি-সি তে কোচিং করার সুবাদে। ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়ে প্রথমেই নিজেকে গুছিয়ে নিতে কিছু সময় লাগে। জীবনের বড় একটা অংশ মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকার ফলে মেয়েদের প্রতি তীব্র কৌতূহল ছিল। যদিও ছেলে হিসেবে আমি বেশ লাজুক প্রকৃতির। একবার কোচিং এর সামনে বসে ফুচকা খাওয়ার পর টাকা দিতে গেলে খেয়াল করলাম পকেটে মানিব্যাগ নেই। এক প্রকার অস্বস্তির মধ্যে পড়লাম। ছোটবেলা থেকেই আত্মসম্মান বোধটা আমার প্রচন্ড। ফুচকাওয়ালাকে বললাম 'মামা, মানিব্যাগ ফেলে এসেছি। আমার কাছে টাকা নাই। এই ঘড়িটা রাখুন।' দোকানী বিজয়ীর হাসি দিল। স্টিভ জবস আইপড আবিস্কার করে যেমন হাসি দিয়েছিলেন অনেকটা সেরকম। জীবনের সেই চরম অপমানজনক অবস্থা থেকে নীরাই আমাকে রক্ষা করেছিল। সেই থেকে একসাথে আছি। জীবনের বাকীটা পথও এভাবেই থাকার ইচ্ছা। মনে মনে একটা হিসেব দাঁড় করালাম। কাল নীরার একুশতম জন্মদিন। শাহবাগ থেকে একুশটা সাদা গোলাপ কিনতে হবে। আর সাথে নীরার সবচেয়ে পছন্দের কৃষ্ণপক্ষ বইটা। সবমিলিয়ে দেড়শ টাকার মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা। বিকেলে অবশ্য হাতে কিছু টাকা আসবে। প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় গত সপ্তাহে আমার একটা লেখা ছাপা হয়েছিল। তার সম্মানী হিসেবে কিছু পাওয়ার কথা। আসলে ঢাকা শহরে অর্থের কষ্টটা কাউকে বুঝতে দেয়া যায়না। প্রিয় মানুষ গুলোকে তো না ই। আর নীরা যদি জানতে পারে আমার এ অবস্থা তা হলে নির্ঘাত খুন করে ফেলবে। হাতে এক হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে বলবে 'ধুর গাধা। ফ্রেন্ডদের কাছে কিছু লুকোতে হয়?' গত তিনবছরে অনেকবার এমন হয়েছে। যদিও নীরা আমার শুধু বন্ধুই না, বন্ধুর চেয়ে কিছুটা ওপরে। আর প্রেয়সীর চেয়ে কিছুটা নিচে। তবে আমার ইচ্ছে কাল ওকে আমার ভালোবাসার কথা বলবো। আগে থেকেই প্লান করা। সকালে ও টিএসসি তে আসবে। সেখান থেকে দু জন ধানমন্ডী যাবো। বিকেলে আশুলিয়া। নীরার সাথে ঘোরার একটা আলাদা মজা আছে। সারাক্ষন পাগলামী করবে। কখনো চুল ধরে,কখনো শার্ট ধরে টান মারবে। আর সবসময় হাসির কথাবার্তা। দামী কোন রেস্তোরায় খেতে গেলে বলবে 'ধুর বোকা,তুই কি অনেক টাকা আয় করিস? তার চেয়ে আয় বাদাম খাই। শোন বাদাম হলো ভালোবাসার ফল। দেখিস না খোসার মধ্যে দু টো ফল। একটা তুই আর একটা আমি। আর আবরন হয়ে আছে ভালোবাসা কিংবা বন্ধুত্ব। বলেই জোড়ে হাসত। ঢাকা শহরের আকাশ বাতাস কাঁপানো সে হাসি দেখে মনে হত এই মেয়ের কোন দুঃখ নেই। থাকতে পারেনা। বিকেলে কাওরান বাজারে প্রথম আলোর অফিসে গেলাম। যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অল্প কিছু টাকা বেশি পাওয়া গেলো। হলে ফেরার পথে একুশটা সাদা গোলাপ কিনলাম। ইচ্ছে ছিল লাল গোলাপ কিনবো। কিন্তু নীরা এখনো আমার বন্ধু। লাল গোলাপ দেয়ার সাহস হলোনা। ফুল কেনার পর গেলাম আজিজ মার্কেটে। অনেক খুঁজে কৃষ্ণপক্ষ বইটা কিনলাম। হাতে কিছু টাকা বেশি থাকায় একটা কবিতার বই ও কিনলাম। নীরার আবার সুনীল খুব পছন্দ। মাঝেমাঝে ক্লাসের ফাঁকে ও বলত ...এই গাধা,তুই কি কিছুই লিখতে পারিসনা? দেখিস না সুনীল কি সুন্দর করে লিখেছে...এ হাত ছুঁয়েছে নীরার হাত। আমি কি এ হাতে কোন পাপ করতে পারি? ইস যদি কেউ আমার হাত ধরে এভাবে বলত. . . .দেখতাম নীরার অভিমানী চোখ দুটো ছলছল করে উঠতো। আমার খুব ইচ্ছে হত নীরার হাত ধরে বলি 'আমি আর কখনো পাপ করবোনা নীরা, তোর হাত টা একটু ধরতে দিবি??? গত চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীর কথা। খুব সকালে নীরার ফোন। ঘুম জড়ানো কন্ঠে মোবাইল রিসিভ করে বললাম 'কি রে,তুই এত সকালে? ওপাশ থেকে নীরা শাসনের সুরে বললো 'আমি কলাভবনের সামনে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে চলে আয়। আমি স্বভাবতই একটু ঢিলেঢালা। নীলা জানতো আমার আসতে আধঘন্টা লাগবে। তবুও অসহায় মেয়েটি আমার পথের দিকে তাকিয়ে থাকতো। কিছুক্ষন পর এসে দেখি নীরা দাঁড়িয়ে আছে। নীল শাড়ী পরা নীরাকে দেখে মনে হল এক টুকরো আকাশ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মুগ্ধ চোখে নীরার দিকে তাকিয়ে বললাম 'তুই আসলেই অনেক সুন্দর...' নীরা অভিমানের স্বরে বললো 'তুই আসলেই গাধা, এতো দিনে খেয়াল করলি? শুধু আমার মনের ভেতর কোথাও বেজে উঠতো ...ভালোবাসি তোমাকে. . ." সকাল থেকেই নীরার জন্যে অপেক্ষা। কখনো ও এত দেরী করেনা। মনের মাঝে অজানা আশঙ্কা কাজ করছে। আজ আবার হরতাল। কখন কি হয় বলা যায়না। আজ অনুধাবন করলাম অপেক্ষার কষ্ট আসলেই অনেক। প্রতিবারই নীরাকে যা আমার জন্যে সহ্য করতে হয়। এসব ভাবতে ভাবতে সামনে আগালাম। গোলাগুলির শব্দ। নীরার মোবাইলে ফোন দিলাম। অনেক আওয়াজের মধ্যে অপরিচিত একটা কন্ঠ বলল 'একটা মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে,শাহবাগ মোড়ে আসেন। আমি অবাক বাকরুদ্ধ হয়ে উদভ্রান্তের মত ছুটলাম। ভীড় ঠেলে সামনে এগিয়ে দেখি নীরা। মাটিতে লুটিয়ে আছে। ফিনকি দিয়ে পরা রক্তের অজস্র ধারায় সাদা শাড়ী খানা খয়েরী হয়ে গেছে।. . . . তানভীরের ডাকে তন্দ্রা ভাঙলো। এই ওঠ বারোটা বাজে। নীরাকে Wish করবিনা? হঠাত্ করেই নিজেকে আলাদা এক জগতে আবিস্কার করলাম। কি দুঃস্বপ্নটাই না দেখেছি। এক মুহুর্ত দেরী না করে নীরাকে ফোন দিলাম। এক রিং হতেই নীরা ফোন ধরল। 'কি ব্যাপার হাঁপাচ্ছিস ক্যানো?কি হয়েছে?????" আমি বললাম 'নীরা আমি তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি। আমাকে ছেড়ে যাবিনাতো. . . .?' নীরা বললো কি পাগলের মত কথা বলছিস,কি হয়েছে বলবিতো? আমি বললাম "শোন কাল তোর আসতে হবেনা। দেশের অবস্থা ভালো না। কাল হরতাল...' নীরা অবাক হয়ে বলল ক্যানো? মুখ থেকে মনের অজান্তেই বের হয়ে গেল 'আমি তোকে হারাতে চাইনা. . .